Skip to content
Home » Blog » সুইস–ঘড়ি থামিয়ে মেসি বললেন, ‘এই দল কখনো বিশ্বাস হারায় না’

সুইস–ঘড়ি থামিয়ে মেসি বললেন, ‘এই দল কখনো বিশ্বাস হারায় না’

প্রথমার্ধে এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও স্বস্তিতে ছিল না আর্জেন্টিনা। বিরতির পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ১-১ গোলে সমতা ফেরায় সুইজারল্যান্ড। নির্ধারিত সময়ে এই ব্যবধান শেষে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। আকাশি-সাদা শিবিরে তখন শঙ্কার মেঘ। তবে অতিরিক্ত সময়ে সব শঙ্কা উড়িয়ে সুইজারল্যান্ডের জমাট রক্ষণ ভেঙে শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের দারুণ জয় ছিনিয়ে নেয় লিওনেল মেসির দল।

রোমাঞ্চকর এই জয়ে কানসাস সিটি পরিণত হয় আর্জেন্টিনার উৎসবের মঞ্চে। সেই মঞ্চের একজন হয়ে লিওনেল মেসিও দারুণ খুশি, তাঁর আত্মবিশ্বাসও যেন তুঙ্গে। নিজের ইনস্টাগ্রামে ম্যাচের কিছু মুহূর্তের ছবি পোস্ট করে সমর্থকদের উদ্দেশে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক দিয়েছেন একটি অনুপ্রেরণামূলক বার্তা, ‘আমরা আবারও কষ্ট করেছি, কিন্তু এই দল কখনো বিশ্বাস হারায় না। আমরা আবার বিশ্বের সেরা চার দলের মধ্যে। চলো, এগিয়ে যাই!’

ম্যাচের পর মিক্সড জোনে দাঁড়িয়েও মেসি শুনিয়েছেন স্বস্তির কথা, ‘জেতায় আমি খুবই খুশি। এটি ছিল অত্যন্ত কঠিন এবং লড়াইপূর্ণ একটি ম্যাচ। আমরা জানতাম ম্যাচটা এমন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে।’

সুইজারল্যান্ড যে সহজে ছেড়ে দেবে না, তা আগে থেকেই জানা ছিল আর্জেন্টিনার। তাই প্রতিপক্ষের এমন লড়াকু মানসিকতায় মোটেও অবাক হননি মেসি। নিজে গোল না পেলেও মাঠজুড়ে ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। সতীর্থ অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে দিয়েও করিয়েছেন একটি গোল।

বিশ্বকাপে মেসির পাস থেকে গোল করা মানেই যেন একেকটি নতুন গল্প। মজার বিষয় হলো, বিশ্বকাপে মেসির প্রতিটি অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেছেন ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড়।

২০০৬ বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে মেসির অভিষেক ম্যাচে শুরু হয়েছিল এই ধারা। সেদিন তরুণ মেসির পাস থেকে গোল করেছিলেন হারনান ক্রেসপো।

আলভারেজকে ঘিরে এভাবেই শুরু হয় সতীর্থদের উচ্ছ্বাস

এরপর একে একে মেসির অ্যাসিস্ট থেকে গোল উৎসবে মেতেছেন কার্লোস তেভেজ, আনহেল দি মারিয়া, গ্যাব্রিয়েল মের্কাদো, সার্জিও আগুয়েরো, এনজো ফার্নান্দেজ, নাহুয়েল মলিনা, হুলিয়ান আলভারেজ ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। সর্বশেষ আজ সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে সেই তালিকায় নতুন নাম হিসেবে যুক্ত হলেন ম্যাক অ্যালিস্টার।

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে এই জয় দলের আত্মবিশ্বাস কতটা বাড়িয়ে দিয়েছে, তা স্পষ্ট মেসির কথাতেই, ‘এই ধাপটি পেরিয়ে আসা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এতে সামনে যা আসছে, তার আগে আমরা তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্বস্তিতে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাব।’

আগামী বুধবার রাতে আটলান্টায় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা

ইতিহাস বলছে, এ পর্যন্ত ছয়বার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে তিনবার ট্রফি ঘরে তুলেছে আর্জেন্টিনা। এবার লক্ষ্য সপ্তমবারের মতো ফাইনালে ওঠার। সেই লক্ষ্যে আগামী বুধবার রাতে আটলান্টায় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

মেসির ক্যারিয়ারে এটি হতে যাচ্ছে তৃতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। তবে ম্যাচটি তাঁর জন্য আরও একটি কারণে একটু বিশেষ। দীর্ঘ ও বর্ণিল ক্যারিয়ারে—হোক তা বিশ্বকাপ কিংবা প্রীতি ম্যাচ; ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটাই হতে চলেছে মেসির প্রথম ম্যাচ। নিশ্চয়ই, থ্রি লায়ন্সদের সঙ্গে মেসির এই নতুন লড়াই দেখতে অধীর হয়ে আছে ফুটবল–বিশ্বও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *