Skip to content
Home » Blog » ফুটবলাররা কেন পানি মুখে নিয়ে কুলি করে ফেলে দেন, জানলে অবাক হবেন

ফুটবলাররা কেন পানি মুখে নিয়ে কুলি করে ফেলে দেন, জানলে অবাক হবেন

ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় নিশ্চয়ই এমন দৃশ্য আপনার চোখেও পড়েছে। খেলার মাঝপথে কোনো ফুটবলার বোতল থেকে এক চুমুক পানি বা স্পোর্টস ড্রিংক মুখে নিলেন, কয়েক সেকেন্ড কুলি করলেন, তারপর গিলে না ফেলে মাঠেই ফেলে দিলেন। অনেকের কাছেই বিষয়টি অদ্ভুত মনে হতে পারে। কেউ ভাবেন, হয়তো খেলোয়াড়েরা পানি অপচয় করছেন। কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে আছে ক্রীড়াবিজ্ঞানের একটি বিশেষ কৌশল।

কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় কয়েক সেকেন্ড মুখে রেখে কুলি করে ফেলে দেওয়া

কী এই কৌশল?

এটিকে বলা হয় ‘কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স’। অর্থাৎ কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় কয়েক সেকেন্ড মুখে রেখে কুলি করে ফেলে দেওয়া।

শুধু ফুটবলারই নন, সাইক্লিস্ট, ম্যারাথন দৌড়বিদসহ দীর্ঘ সময় উচ্চমাত্রার পরিশ্রম করা অনেক ক্রীড়াবিদই এই পদ্ধতি মেনে চলেন।

কীভাবে কাজ করে?

গবেষণায় দেখা গেছে, মুখের ভেতরে এমন কিছু রিসেপ্টর আছে, যা কার্বোহাইড্রেটের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারে। যখন মুখে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় রাখা হয়, তখন সেই সংকেত মস্তিষ্কের এমন কিছু অংশে পৌঁছায়, যা পুরস্কার, উদ্দীপনা ও মোটর নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ফলে শরীর প্রকৃতপক্ষে অতিরিক্ত শক্তি না পেলেও মস্তিষ্ক কিছু সময়ের জন্য মনে করে, শক্তির জোগান আসছে। এতে খেলোয়াড়ের সতর্কতা, মনোযোগ এবং কর্মক্ষমতায় সাময়িক ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তাহলে পানীয়টি গিলে ফেলেন না কেন?

ম্যাচ চলাকালে ফুটবলারদের খুব অল্প সময়ের জন্য বিরতি মেলে। এ সময় বেশি বা স্পোর্টস ড্রিংক খেলে পেট ভারী লাগতে পারে, অস্বস্তি হতে পারে বা দ্রুত দৌড়ানোর সময় সমস্যা হতে পারে।

এ ছাড়া পানীয় গিলে ফেললে সেটি হজম হয়ে শরীরে কাজ করতে সময় লাগে। কিন্তু মুখে কয়েক সেকেন্ড কুলি করলেই মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় সংকেত প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পৌঁছে যায়। তাই অনেক খেলোয়াড় এই দ্রুত কৌশল বেছে নেন।

২০১৮ বিশ্বকাপে আলোচনায় এসেছিল যে বিষয়

২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে ‘কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স’ বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে

যদিও এই পদ্ধতি বহু বছর ধরেই ব্যবহৃত হচ্ছে, ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে এটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ক্যামেরায় ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন, পর্তুগালের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে এই পদ্ধতি মেনে চলতে দেখা যায়।

এটি কি পানির বিকল্প?

একেবারেই নয়। কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স কখনোই শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে পারে না। খেলোয়াড়দের ঘামের মাধ্যমে হারানো পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণে নিয়মিত পানি বা ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয়ই খেতে হয়।

সাধারণত ম্যাচ শুরুর আগে, বিরতির সময়, ম্যাচ শেষে এবং গরম আবহাওয়ায় নির্ধারিত ‘কুলিং ব্রেক’ বা ‘হাইড্রেশন ব্রেক’-এ ফুটবলাররা পর্যাপ্ত পানি খান।

সাধারণ মানুষের জন্যও কি উপকারী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স’ পদ্ধতি মূলত দীর্ঘ সময় উচ্চমাত্রার ব্যায়াম বা প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার জন্যই উপযোগী

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি মূলত দীর্ঘ সময় উচ্চমাত্রার ব্যায়াম বা প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার জন্যই উপযোগী। সাধারণভাবে হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রে এর বিশেষ কোনো প্রয়োজন নেই।

অর্থাৎ মাঠে ফুটবলারদের মুখে পানি নিয়ে কুলি করে ফেলে দিতে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটি পানি অপচয় নয়; বরং পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য ক্রীড়াবিজ্ঞানে স্বীকৃত একটি কৌশল। তবে এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি খাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: সেইস ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *