Skip to content
Home » Blog » ইরানের ওপর আবারও মার্কিন নৌ অবরোধ, জাহাজ থেকে টোল নেওয়ারও ঘোষণা ট্রাম্পের

ইরানের ওপর আবারও মার্কিন নৌ অবরোধ, জাহাজ থেকে টোল নেওয়ারও ঘোষণা ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ওপর আবারও অবরোধ কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপদে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোর কাছ থেকে অর্থও নেওয়া হবে।

তবে ট্রাম্পের এ ঘোষণা তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। উভয় দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যেই আজ সোমবার এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে আজ ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করব। সম্ভবত এটা পরিচালনাও করব। আমরা প্রণালির অভিভাবক হব। এর জন্য আমাদের অর্থ দেওয়া উচিত।’

ট্রাম্প বলেন, এ দায়িত্ব পালনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অনেক অর্থ’ দেওয়া উচিত। কারণ, এ নৌপথ ব্যবহারকারী দেশগুলো ধনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিনা মূল্যে এ সেবা আশা করা উচিত নয়।

এর কিছুক্ষণ পর নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আবারও অবরোধ কার্যকর করছে। তিনি লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালির অভিভাবক’ হিসেবে পরিচিত হবে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যত ধরনের ব্যয় হবে, তার জন্য প্রণালি দিয়ে চলাচল করা প্রতিটি পণ্যবাহী জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ হারে অর্থ আদায় করা হবে। এই ব্যবস্থা কার্যকরের প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে বলে জানান তিনি।

ট্রাম্প একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, ইরান অন্তর্বর্তী সমঝোতা চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘চুক্তি হয়ে গিয়েছিল; কিন্তু তারা তা ভেঙেছে। তারা সব সময় চুক্তি ভাঙে। তাদের সঙ্গে আমাদের ১০টি চুক্তি হয়েছে। তাই এবার আমরা তাদের ওপর খুব কঠোর হামলা চালাব।’

ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেন, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা থাকতে পারে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতা বা তাদের বাহিনীকে রসদ সরবরাহ ইরানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এতে পুরো অঞ্চল সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

গতকাল রোববার হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয় ইরান। এরপর সোমবার দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ঘিরে গত সপ্তাহের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের সূচনা হয়।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আজ বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে।

গত মাসের মাঝামাঝি স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কথা থাকলেও সাম্প্রতিক সংঘর্ষে সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *