Skip to content
Home » Blog » আফগান সীমান্তে অভিযানে ২৯ ‘সন্ত্রাসী’কে হত্যার দাবি পাকিস্তানের, বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার অভিযোগ কাবুলের

আফগান সীমান্তে অভিযানে ২৯ ‘সন্ত্রাসী’কে হত্যার দাবি পাকিস্তানের, বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার অভিযোগ কাবুলের

পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থল ও আকাশপথে অভিযান চালিয়ে অন্তত ২৯ জন ‘সন্ত্রাসী’কে হত্যা করেছে। আজ সোমবার পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, আফগান তালেবান সরকারের দাবি, প্রতিবেশী দেশের বিমান হামলায় সেখানে অন্তত ৩৮ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় গতকাল রোববার ওই বিমান হামলা চালানো হয়। পাকিস্তান দাবি করেছে, তাদের নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের আস্তানা নিশানা করে ওই হামলা চালিয়েছে। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার আফগানিস্তানে এ দাবিতে হামলা চালাল পাকিস্তান।

গতকালের ওই হামলার পর দুই সাবেক মিত্রের মধ্যে চলমান বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে উভয় পক্ষ কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘর্ষে জড়িয়েছিল।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লেখেন, ‘আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশের তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ২৫ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও ধ্বংস করা হয়েছে।’

এ ছাড়া পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত প্রদেশ খাইবার পাখতুনখাওয়ার বাজাউর জেলায় স্থল অভিযানে পাকিস্তানি তালেবানের (টিটিপি) জামাত-উল-আহরার গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও চার যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

তবে আফগান সরকারের মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত দাবি করেছেন, বিমান হামলায় ৩৮ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান পাকতিয়া প্রদেশের একটি বাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছে। সেখানেই সবচেয়ে বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে জানান আফগান মুখপাত্র। তাঁর দাবি, ওই হামলায় ২৮ জন নিহত এবং ১৫৮ জন আহত হয়েছেন।

বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামকানি জেলার উপপ্রধান খালিদ আহমদ সাজাদ বলেন, বাসিন্দারা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে ছুটে গেলে সেখানে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়।

এক সংবাদ সম্মেলনে খালিদ আরও বলেন, তাঁরা যখন উদ্ধারকাজ চালাচ্ছিলেন, তখন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী একই স্থানে দ্বিতীয় দফা বিমান হামলা চালায়।

আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রদেশের সামকানি জেলায় বিমান হামলায় ধ্বংস হওয়া একটি ভবনের সামনে লোকজন জড়ো হয়েছেন। তালেবানের দাবি, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী এ হামলা চালিয়েছে। ২৯ জুন, ২০২৬

আতাউল্লাহ তারার বলেন, পাকিস্তানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একাধিক সন্ত্রাসী হামলার জবাব দেওয়া হচ্ছে। হামলাগুলোর মধ্যে গত শনিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর করাচিতে সিন্ধ রেঞ্জার্সের একটি স্থাপনায় জামাত-উল-আহরারের বোমা ও বন্দুক হামলার ঘটনাও রয়েছে। ওই হামলায় পাকিস্তান রেঞ্জার্সের তিন সদস্য নিহত এবং চারজন আহত হন।

এক্সে দেওয়া পোস্টে তারার আরও বলেন, ‘(পাকিস্তানের) নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত নির্ভুলভাবে সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ শিবির ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলোয় হামলা চালিয়েছে।’

ইসলামাবাদের অভিযোগ, পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনাকারী সন্ত্রাসীদের আফগানিস্তান আশ্রয় দিচ্ছে। তবে আফগান তালেবান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *