Skip to content
Home » Blog » জার্মানিতে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের পর বজ্রঝড়

জার্মানিতে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের পর বজ্রঝড়

রেকর্ড সৃষ্টিকারী গরমের পর মধ্য ইউরোপে তাপমাত্রা আবার কমছে। আজ সোমবার জার্মানির বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে আকাশ আঁধার করে নেমেছে বৃষ্টি। এর সঙ্গে আছে বজ্রপাত ও বিদ্যুতের চমক।

জার্মানির পূর্ব ব্র্যান্ডেনবার্গে ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় গতকাল রোববার। এরপর তা কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

আজ সকাল থেকেই জার্মানির বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি, প্রবল দমকা হাওয়াসহ সম্ভাব্য তীব্র বজ্রঝড় শুরু হয়েছে। জার্মান আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শিলাবৃষ্টি এবং মুষলধারে বৃষ্টিসহ বজ্রঝড় গত রাতে দক্ষিণ ও পূর্ব জার্মানিতে আঘাত হেনেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের অচিন্তনীয় তাপপ্রবাহের অভিজ্ঞতা মধ্য ইউরোপের মানুষের ছিল না। ফলে গত এক সপ্তাহজুড়ে এখানকার মানুষ গরমে হাঁসফাঁস ও হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। সুইমিংপুল ও হ্রদ ও নদীর পাড়গুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বনগুলোতে আগুন লাগার ঝুঁকির পূর্বাভাস দেওয়া হয়। মানুষকে স্বস্তি দিতে জলকামান থেকে পানির ফোয়ারা ছিটানো হয় বিভিন্ন স্থানে।

বার্লিন শহরের ফায়ার ব্রিগেডও জানিয়েছে, গরমজনিত জরুরি অভিযানের সংখ্যা বেড়েছে। রোববার বিকেল পর্যন্ত পরিস্থিতি শুক্রবারের একই সময়ের মতোই ছিল। তবে শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযানের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩০০টি বেশি ছিল। অধিকাংশ জরুরি কল এসেছে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া এবং পানিতে দুর্ঘটনার কারণে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ডোমিনিক ইয়ুং আজ ফ্রাঙ্কফুর্ট রন্ডসু পত্রিকাটিতে লিখেছে, জুন মাসের ভয়াবহ তাপপ্রবাহ শেষ হতেই আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাসে আরেকটি চরম তাপপ্রবাহের ইঙ্গিত মিলছে। আর এক দিন পর জুলাইয়ের শুরুতেই বজ্রঝড় ও তাপমাত্রা হঠাৎ ১২ ডিগ্রি পর্যন্ত কমে যাওয়ায় কয়েক দিনের জন্য স্বস্তি মিলতে পারে। তাপমাত্রা নেমে আসতে পারে ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তিনি জানিয়েছেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখাচ্ছে, জুলাই মাসেও একই ধরনের পরিস্থিতি আবার তৈরি হতে পারে।

আগামী ৮ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান তাপ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। ফ্রান্স থেকে আবারও প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণ বায়ু জার্মানির দিকে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১০ থেকে ১২ জুলাই থেকে তাপমাত্রা আবার দ্রুত বাড়তে শুরু করবে।

জুলাইয়ের দ্বিতীয়ার্ধ আরও ভয়াবহ গরম আসার কারণ হিসেবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ডোমিনিক ইয়ুং জানিয়েছেন, এর পেছনে রয়েছে একটি স্থায়ী বায়ুমণ্ডলীয় প্রবণতা, যা এ গ্রীষ্মে বারবার দেখা যাচ্ছে। মধ্য ইউরোপের ওপর একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয় বারবার স্থির হয়ে যাচ্ছে এবং উত্তর আফ্রিকা থেকে অত্যন্ত গরম বাতাস উত্তর দিকে ধেয়ে আসছে।

ইউরোপীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (ইসিএমডব্লিউএফ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওসেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) মৌসুমি বলা হয়েছে, আগামী জুলাই মাস সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি উষ্ণ এবং শুষ্ক হবে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, পুরো গ্রীষ্মের মধ্যে জুলাই হতে পারে উষ্ণতম মাস।

উদ্বেগের বিষয় হলো, ইউরোপীয় আবহাওয়া মডেলের ২৮ দিনের পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে যে ২০ থেকে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যেও ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকবে; অর্থাৎ এই আবহাওয়ার ধরন সহজে পরিবর্তিত হওয়ার লক্ষণ নেই।

এবারের গ্রীষ্ম জার্মানি বা মধ্য ইউরোপের দেশগুলোর জন্য কঠিন এক পরীক্ষায় পরিণত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *